বৃহস্পতির দুই চাঁদ “Europa এবং Ganymede” এ প্রাণের স্পন্দন!

10/01/2015

পৃথিবী ছাড়া এই ব্রহ্মাণ্ডের আর কোথাও প্রাণ রয়েছে কি না,সেই কৌতূহল সম্ভবত আগে মেটাতে পারে এই সৌরমণ্ডলের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতির দুই চাঁদ- ‘Europa এবং Ganymede’।

১৬১০ সালে Galileo প্রথম আবিষ্কার করেন ৪টি Jovian satellites: Io, Callisto, Ganymede, এবং Europa। প্রায় ৪০ বছর আগে আধুনিক Astronomer, Gerard Kuiper জানিয়েছিলেন  Europa’র crust পানি এবিং বরফ দিয়ে আবৃত। “Where there is an ocean, life could arise. In this respect, after Mars, the Europa satellite is probably the most intriguing place in the solar system,” -Russian Space Research Institute এর হেড Lev Zelyony এমনটি মন্তব্য করেছিলেন।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA যে গবেষক দলটির পক্ষে মঙ্গলে এখনো নোনা জলের অস্তিত্ব রয়েছে বলে মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে, তার অন্যতম বাঙালি মহাকাশবিজ্ঞানী Hillol Gupto মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে UMBC সেন্টারের কম্পিউটার ও মহাকাশবিজ্ঞানী Hillol পাসাডেনা থেকে টেলিফোনে জানিয়েছেন , ‘প্রাণের জন্য পানিকে তরল অবস্থায় থাকতেই হবে আর সেই পানি পর্যাপ্ত হতে হবে; তেমনই তরল অবস্থায় পানির খোঁজ মিললেই যে প্রাণের সৃষ্টি হবে, তা কিন্তু জোর দিয়ে বলা যায় না।

প্রাণে’র জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেনেরও প্রয়োজন। আর সেই অক্সিজেনকে পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাসীয় অবস্থাতেই থাকতে হবে। এখনো পর্যন্ত যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে মঙ্গলের তুলনায় অক্সিজেন গ্যাস অনেক বেশি পরিমাণে রয়েছে বৃহস্পতির দুই চাঁদ ইউরোপা আর গ্যানিমিদে। তাই, Mars এ তরল পানি মিললেও ‘প্রাণে’র খোঁজ মিলবে কতটা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে, এত বেশি পরিমাণে অক্সিজেন গ্যাস রয়েছে ইউরোপা আর গ্যানিমিদে যে, বৃহস্পতির ওই দুই চাঁদে অণুজীব না থাকলে, সেটাই হবে বিস্ময়ের।

বিজ্ঞানী হিল্লোল জানিয়েছেন, বৃহস্পতির দু’টি ‘চাঁদ’— ‘ইউরোপা’ আর ‘গ্যানিমিদ’-এ রয়েছে প্রচুর অক্সিজেন গ্যাস আর প্রচুর হাইড্রোজেন গ্যাস। অভাব নেই কার্বন, নাইট্রোজেন, সালফার ও ফসফরাসের মতো প্রচুর রাসায়নিক মৌলও। কার্বন আর নাইট্রোজেনের পরিমাণ মঙ্গলের থেকে অনেকটাই বেশি। বৃহস্পতির দুই চাঁদের বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন রয়েছে বলে কার্বন,নাইট্রোজেন,সালফার ও ফসফরাস-ঘটিত যৌগেরও অভাব নেই সেখানে। যে মহাসাগরগুলো রয়েছে বৃহস্পতির দুই চাঁদে সেগুলির গভীরতা আমাদের আটলান্টিক বা, প্রশান্ত মহাসাগরের তুলনায় প্রায় দশ থেকে পনেরো গুণ। বৃহস্পতির চাঁদের মহাসাগরগুলি তার পিঠের পুরু ও লোহার মতো শক্ত বরফের চাদরের খুব একটা নীচে নেই। সেই বরফের চাদরের মাত্র ৯৫ থেকে ১১৫ মাইল নীচেই রয়েছে তরল পানির ওই সুবিশাল মহাসাগরগুলি। সেই পানিও পৃথিবীর মতোই নোনা।

বৃহস্পতির দুই ‘চাঁদে’, ওই পরিবেশে এখনও কম করে ৩০০ কোটি অণুজীব বেঁচে থাকতে পারে বলে গবেষণাপত্রে হিসেব করে জানিয়েছেন University of Arizona in Tucson এর অধ্যাপক Richard Greenberg। সেই অণুজীব হতে পারে ‘মাইক্রো-ফ্লোরা’ বা, অণু-উদ্ভিদ, আবার তা ‘মাইক্রো-ফনা’ বা অণু-প্রাণীও হতে পারে। তা সে ‘প্রাণী’ই হোক বা ‘উদ্ভিদ’ সেগুলি “Single-celled” বা “Unicellular” হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সৃর্য থেকে অত দূরে তা-ও আবার অতটা পুরু বরফের চাদরে’র তলায় লুকিয়ে থাকা মহাসাগরের ৯০ থেকে ১৫০ মাইল নীচে ‘ইউরোপা’ ও ‘গ্যানিমিদ’-এ  বহুকোষী প্রাণী বা উদ্ভিদের হদিশ মেলাটা কার্যত, অসম্ভবই।’

এই মাসেই পোয়ের্তো রিকোয়, ‘আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’র ডিভিশন ফর প্ল্যানেটারি সায়েন্সে’র ৪১তম বৈঠকে একটি চাঞ্চল্যকর research paper পেশ করেছেন Arizona বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিশিষ্ট অধ্যাপক Richard Greenberg। ওই গবেষণাপত্রটি তৈরি করার ক্ষেত্রে হিল্লোল ছিলেন গ্রিনবার্গের সহকারী।

হিল্লোল জানিয়েছেন, বৃহস্পতির দু’টি চাঁদ ইউরোপা আর গ্যানিমিদে রয়েছে প্রচুর অক্সিজেন গ্যাস। রয়েছে প্রচুর হাইড্রোজেন গ্যাস। অভাব নেই কার্বন, নাইট্রোজেন, সালফার ও ফসফরাসের মতো প্রচুর রাসায়নিক মৌলের। অন্তত, কার্বন আর নাইট্রোজেনের পরিমাণ তো মঙ্গলের থেকে অনেকটাই বেশি। বৃহস্পতির দুই চাঁদের বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন রয়েছে বলে কার্বন, নাইট্রোজেন, সালফার ও ফসফরাস ঘটিত যৌগেরও অভাব নেই সেখানে। যে মহাসাগর রয়েছে বৃহস্পতির দুই চাঁদে, সেগুলির গভীরতা আমাদের আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের তুলনায় প্রায় দশ থেকে পনেরো গুণ। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বলছে, সেই Hydrogen peroxide gas দু’টি চাঁদে’র পিঠে পুরু বরফের চাদর ফুঁড়ে তার নীচে লুকিয়ে থাকা মহাসাগরের তরল জলে মিশেছে। এটাই প্রাণ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির ভাণ্ডারের জন্ম দিয়েছে বৃহস্পতির দুই চাঁদে।

হিল্লোল জানিয়েছেন, প্রমাণ মিলেছে  বৃহস্পতির চাঁদ দু’টিতে তরল জল প্রায় প্রতি মুহূর্তেই ফুটে চলেছে। জল ফুটছে বলেই দুই চাঁদের দুই মেরু থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বেরিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে।

Hubble Space Telescope এ সেই ছবি ধরাও পড়েছে। জোরালো অভিকর্ষ বল আর মহাসাগরগুলির নীচে থাকা জীবন্ত Volcano বৃহস্পতির দুই চাঁদে তরল পানিকে ফুটিয়ে প্রচুর জলীয় বাষ্পের জন্ম দিচ্ছে। এই ঘটনাও বৃহস্পতির চাঁদ দু’টিতে প্রাণের হদিশ মেলার সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সুত্র – নাসা, ডেইলি গ্যালাক্সি
 

Tech Ninja – Techmorich