ক্রমশ অবসবাসযোগ্য হয়ে উঠছে পৃথিবী!

09/08/2015

আসলে এ কথা চিন্তা করা একটু কঠিন কাজই যে, আগামীর বিশ্ব কতটা জনবহুল বা ঘনবসতিপূর্ণ হবে। এটা আরো ভালভাবে উপলব্ধি করা যায় যখন আমরা দেখতে পাই একটা মার্কেটে মানুষের মাঝে কতটা ধাক্কাধাক্কি হয়। অথবা লোকাল বাসে মানুষ কেমন করে অফিসে যাওয়ার জন্য বা অফিস থেকে ফেরার পথে রীতিমত যুদ্ধ করে।

আগামীতে পৃথিবী নামক এই গ্রহের জনসংখ্যা কোন সালে কততে গিয়ে ঠেকবে সেটা ধারণা করা মুশকিল। তবে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্ন হিসাব কষে মোটামুটি নতুন একটা ধারণা দিয়েছেন। বর্তমানে পৃথিবীর লোকসংখ্যা প্রায় ৭.৩ বিলিয়ন। ২০৩০ সাল নাগাদ এর পরিমান দাঁড়াবে ৮.৪ বিলিয়ন। এই সংখ্যাটি ৯.৭ এ গিয়ে ঠেকবে ২০৫০ সালে। ২১০০ সালে জনসংখ্যা হবে ১১.২ বিলিয়ন!

মানুষ চাইলেও এখন জনমানবশূন্য বা একটু নির্জন জায়গায় গিয়ে সময় কাটানোর সুযোগ পায় না। আমাদের শহর থেকে গ্রাম ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে অগণিত মানুষের পদচারণায় মুখর। জনসংখ্যার এই ক্রমবর্ধমান গতির সাথে পাল্লা দিয়ে বসবাসের যোগ্য ভূমি বাড়ছে না। তাই মানুষের পদচিহ্ন পড়ছে মনুষ্য বসতির বাইরের জগতে। এমন কি মানুষ এখন পা বাড়াচ্ছে মঙ্গোলিয়ার গবি মরুভূমির মত জায়গাতেও। সাহারা মরুভূমি আর এন্টার্কটিকাতেও মানুষ চেষ্টা চালাচ্ছে বসবাসের জন্য। একটা প্রশ্ন মাথায় আসে যে, পৃথিবীতে কি এমন কোন জায়গা একসময় অবশিষ্ট থাকবে না যেখানে মানুষের পদচিহ্ন পড়ে নাই? বসবাসযোগ্য এমন এক ইঞ্চি জায়গাও কি বাদ থাকবে না মানুষের দখল হওয়া থেকে?

অপরদিকে পৃথিবীব্যাপী শহরগুলোর উপর ক্রমশ চাপ বাড়ছে। ১৯৩০ সালে প্রায় ৩০% লোক শহরে বসবাস করত। কিন্তু বর্তমানে সেটি প্রায় ৫০% এ দাঁড়িয়েছে। ২০৫০ সাল নাগাদ হয়ত পরিমানটা দুই-তৃতীয়াংশে গিয়ে দাঁড়াবে। Rockefeller University and Columbia University এর Laboratory of Populations প্রধান Joel Cohen বলেন “virtually দেখা যাবে এ শতাব্দীর শেষের দিকে পুরো জনগোষ্ঠিই বেড়ে উঠবে শহরকেন্দ্রীক হিসেবে”। তিনি আরো জানান ২১০০ সাল নাগাদ প্রতি ৫-৬ দিনে প্রায় ১ মিলিয়ন করে মানুষ শহুরে হবে।

ঢাকা, দিল্লী বা নিউইয়র্কের মত বড় শহরগুলোর উপর মানুষের চাপ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির এ হার সবচেয়ে বেশি হচ্ছে পিছিয়ে পরা জনবসতিগুলোতে বা বস্তি এলাকায়। এখানে মানুষের শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবকে এ জন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতের population এর বড় একট অংশ আসবে আফ্রিকা থেকে। গবেষকরা আফ্রিকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির ব্যাপারে রীতিমত শংকা প্রকাশ করেছেন।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে বাড়ছে না বসত ভিটা বা চাষাবাদের জন্য পর্যাপ্ত ভূমি। কমে আসছে মাটির উর্বরতা। কমছে জ্বালানী ও প্রাকৃতিক সম্পদের পরিমাণ। নিচে নেমে যাচ্ছে সুপেয় পানির স্তর। ধ্বংস হচ্ছে প্রয়োজনীয় বনভূমি। পরিবর্তন হচ্ছে জলবায়ু। তাহলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আমরা কি একটি বসবাসের অনুপযোগী আর অভিষপ্ত পৃথিবী রেখে যাচ্ছি?

 

Tech Analyst – Techmorich