“ডিজাইন থিঙ্কিং” কি?

12/05/2017

ডিজাইন থিঙ্কিং এর ঠিক শুরুটা কে করেছিল বা কিভাবে হয়েছিল সেটা বের করতে গেলে লম্বা একটি লিস্ট উঠে আসবে। কিন্তু তত্মধ্যে উল্লেখযোগ্য যে ক’জন আছেন তাদের মধ্যে আমেরিকান ডিজাইনার “রফ এ ফাস্ট”, যিনি হিউম্যান সেন্টার্ড ডিজাইন এবং ডিজাইন এডুকেশনে অনেক অবদান রেখেছেন তার কথা না বললেই নয়। “রফ এ ফাস্ট” স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ম্যাক কিম এর একটি কাজে সে সময় “ডিজাইন থিঙ্কিং” বিষয়টিকে “মেথড অফ ক্রিয়েটিভ একশন” নামে শিখিয়েছিলেন। পরবর্তিতে ফাস্ট এর একজন কলিগ “ডেভিড এম কেলি” যিনি বর্তমান ডিজাইন কনসালটেন্সি ফার্ম IDEO এর প্রতিষ্ঠাতা স্টেনফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে “ডিজাইন থিঙ্কিং” বিষয়কে ব্যাবসার উদ্দ্যেশ্যে অভিযোজন করেন।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইন্সটিটিউটগুলোতে “ডিজাইন থিঙ্কিং” এর গুরুত্বের দিক বিবেচনা করে একাডেমিক জগতে একটি নতুন বিষয় হিসেবে যোগ হয়েছে।  যেমন জার্মানির “হাসো প্লাটনার” সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, টরেন্টো, লন্ডন, ভ্যাঙ্কাভার সহ বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে “ডিজাইন থিঙ্কিং” কোর্সটির বেশ চাহিদা রয়েছে।

“ডিজাইন থিঙ্কিং” কি?

ইদানিং আশেপাশে দুটো শব্দ বেশ শুনা যাচ্ছে, তাহলো “ডিজাইন  থিঙ্কিং”। কি এই “ডিজাইন  থিঙ্কিং”? সরাসরি অর্থ করলে অনেকটা এরকম দাঁড়ায়, “নকশা চিন্তা”। তাহলে কিসের নকশা নিয়ে এত চিন্তা, এত গুঞ্জন চারিপাশে?

টেকনলজির দ্রুত প্রসার ঘটার ফলে মানুষের জীবনযাত্রা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে উঠেছে। তথ্য প্রজুক্তির কল্যানে কমে এসেছে কায়িক শ্রম, কমেছে পথের দূরত্ব, দারিদ্র নিরসনের হার বেড়েছে, শিক্ষার হার বেড়েছে, দূর হচ্ছে বেকার সমস্যা, সময়ের সদ্ব্যাবহার করে মানুষ এগিয়ে চলেছে উন্নয়নের পথে।

কিন্তু জনসংখ্যার বৃদ্ধির ফলে কমে আসছে আমাদের খনিজ সম্পদ, নদী-নালা কমে যাচ্ছে, বসতি বাড়ছে, বাড়ছে দূষন, অসহ্য ট্রাফিক জ্যাম, স্বাস্থ্য সমস্যা, নিরাপত্তা সমস্যা, দুর্নীতি সহ আরও হাজারো সমস্যা। আর এসবকিছু ক্রমশঃ ভয়াবহ আকার ধারণ করবে যদি না আমরা এখনি এর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেই। আর এইসব আমাদের দৈনন্দিন জীবন-যাপনকে সহজ করে তুলতে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারে তা হলো “ডিজাইন  থিঙ্কিং” চর্চা করা।

আরও সহজ করে বলা যায়, দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাগুলোর সহজ সমাধান খুজে বের করার একটি অনন্য কৌশল হচ্ছে ডিজাইন থিঙ্কিং ৷ কীভাবে? ধরুন, আপনি এমন কিছু একটা  বানাতে চাচ্ছেন যার দ্বারা মানুষের জীবনে কোন একটি সমস্যার সমাধান দেয়া যেতে পারে। কিন্তু আপনি ঠিক বুঝতে পারছেন না কিভাবে গুছিয়ে কাজটি করবেন।  ডিজাইন থিঙ্কিং চর্চা সেই কাজটি একটি পদ্ধতির মাধ্যমে সহজ করে দেবে। ডিজাইন থিঙ্কিং সৃজনশীলতার চর্চা করতে শেখায় এবং চিন্তা শক্তিকে জাগিয়ে তোলে।

সমস্যা চিহ্নিত করা

আমরা অনেক কিছু করতে চাই। কিন্তু সঠিকভাবে সমস্যা চিহ্নিত করতে পারি কজন? সমস্যা চিহ্নিত না করতে না পারার কারনে অনেকেই অতি উৎসাহিত হয়ে কোন প্রজেক্ট হাতে নিয়েও তালগোল হারিয়ে ফেলেন৷ কিভাবে শুরু করবেন, কোন ধাপের পর কোন ধাপে যাবেন সেগুলো গুছিয়ে করতে পারে্ন না৷ সবার আগে চিহ্নিত করতে হবে সমস্যাগুলো কি কি? কিভাবে এর সহজ সমাধান খুঁজে বের করা যায়। যেমন, যে কোন এপ বা সার্ভিস দেবার আগে চিন্তা করুন সমস্যাটা কি এবং আপনি কিভাবে সমাধানটি দিতে চাচ্ছেন।

গবেষণা এবং চিন্তাভাবনা করা

সমস্যা তো বের করলেন, কিন্তু যাচাই করে দেখেছেন কি এর সমাধান ইতিমধ্যেই কেউ দিয়ে ফেলেছে কিনা বা আদৌ আপনার এপ বা সার্ভিসটি প্রয়োজন আছে কিনা?

যে প্রডাক্টটি নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন তার সম্পর্কে আগে গভীরভাবে গবেষণা এবং চিন্তা ভাবনা করে আপনাকে সমাধানের পথে এগোতে হবে। তবেই সেটা সাক্সেসফুল হতে পারে। আপনি জা করতে চাচ্ছেন তা সম্পর্কে মানুষের কাছ থেকে সমস্যাগুলোর কথা শুনার চেষ্টা করতে হবে। আপনার সেবা কিংবা প্রডাক্টটি কিভাবে মানুষকে সাহায্য করবে, মানুষ আসলে কি চায় এবং কত সহজে আপনি আপনার ইউজার বা ভোক্তাকে একটি সমাধান দিবেন  তা নিয়ে তুমুল ব্রেইন স্টর্মিং করতে হবে।

সৃজনশীলতা এবং বুদ্ধিমত্তার চর্চা

এখন সবাই স্মার্ট ফোন বা সেল ফোন ব্যাবহার করে। । কেউ কেনাকাটার জন্য ব্যাবহার করে, কেউ গুগল ম্যাপ ইউজ করে লোকেশন নির্ধারন করে বা কোথায় জ্যাম আছে তা দেখে নিয়ে সেই পথ এড়িয়ে চলে, আবার কেউ স্বাস্থ্য সেবার জন্য এপয়েন্টমেন্ট নেয়, কেউ আবার কোথায় আজ কোন রেস্টুরেন্টে কি পাওয়া যাচ্ছে তা খুঁজে বের করে। সৃজনশীল চর্চার মাধ্যমে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা এরকম অসংখ্য এপ বা সফটওয়্যার উদ্ভাবন করে আমরা জীবনকে অনেক সহজ করে তুলতে পারি।৷

কাদের জন্য “ডিজাইন থিঙ্কিং”?

সমস্যা সর্বত্র , তাই সমাধানও সবার প্রয়োজন। অনেকেই ভাবেন, আমি তো ডিজাইনের ছাত্র বা ছাত্রী নই তাহলে “ডিজাইন থিঙ্কিং”  আমার কোন উপকারে আসবে। ডিজাইন থিঙ্কিং এর বিশেষত্বই হল সব ডিসিপ্লিনের ছাত্র-ছাত্রী বা প্রফেশনালরা এতে অংশগ্রহণ করতে পারে। সাহিত্য, সংগীত, ইতিহাস, মনোবিজ্ঞান, সোশ্যাল সায়েন্স অথবা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং যেকোন সাব্জেক্ট নিয়েই পড়াশোনা করুন না কেন,  সৃজনশীলতার পরিচয় দিতে পারে এমন যে কেউ ডিজাইন থিঙ্কিং-এ আসতে পারে৷ কারন এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ না হয়েও সবার একটিই লক্ষ্যই থাকে তা হল  সৃজনশীল চর্চার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা।

আরও জানতে অংশগ্রহণ করুন UXBC 2018