চালকবিহীন যানের প্রযুক্তিতে মানুষের বিকল্প হবে মেশিন (পর্ব ০১)

09/03/2015

ট্রাক চালাতে পারেন তো? আপনার মনে যদি কখনও ট্রাক ড্রাইভার হওয়ার চিন্তা উঁকি দিয়ে থাকে তাহলে জেনে রাখুন ইউএস সেনসাস ব্যুরোর  (এন পি আর) এক জরিপ অনুযায়ী ট্রাক ড্রাইভিং হল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯ টি রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পেশাগুলোর মধ্যে একটি।

ব্যপারটা এমন নয় যুক্তরাষ্ট্রের সবাই ট্রাক ড্রাইভার হতে চায়, বরঞ্চ বলা যায় এটি এখন খুব সহজে পর্যাপ্ত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পাওয়া যায় এমন একটি পেশা। সমসাময়িক বছরগুলোতে যেখানে অন্যান্য কাজগুলো প্রযুক্তির আগ্রাসনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, সেখানে ট্রাক ড্রাইভাররা এখনও তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিগত কয়েক দশকে যেমন অফিস সেক্রেটারি, গ্যাস স্টেশনের এসিসটেন্ট কিংবা ব্যাংকের ক্যাশিয়ার এর মতন চাকুরীগুলো এক এক করে কম্পিউটার, সেলফ সার্ভিসেস পাম্প আর ক্যাশমেশিন গুলোর দখলে চলে গিয়েছে সেখানে ট্রাক ড্রাইভারদের দৌরত্ম বর্তমানে প্রেক্ষিতেও যথেষ্ট জৌলুসের সাথে বিরাজমান। কেননা এখন পর্যন্ত যে চালকবিহীন ট্রাক কিংবা স্বয়ংক্রিয় যানের প্রযুক্তি অতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি।

কিন্তু ঠিক কতদিন পর্যন্ত অবস্থা এমন বিরাজ করবে তা অবশ্য বলা যাচ্ছে না। GOOGLE, UBER  কিংবা TESLA’র মতন কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে স্বয়ংক্রিয় চালকবিহীন গাড়ির ব্যবহার শুরু করে দিয়েছে, যেগুলো অনেক দুরের পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। এখন যদি উদ্যক্তরা পুরোপুরি দূরপাল্লার চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় গাড়ি তৈরি করতে পারেন যেগুলো এক দেশ থেকে আরেক দেশ পাড়ি দিতে পারবে, তাহলে পরিবহনের জগতে এক নতুন দিগন্ত অপেক্ষা করছে বলাই যায়। স্বয়ংক্রিয় গাড়ি একদিকে যেমন চালকদের বিশ্রামের জন্য ব্যয় হওয়া সময়টুকু বাঁচাবে, অপরদিকে বাড়াবে সড়কের নিরাপত্তা। এক আমেরিকাতেই প্রতি বছর চালকদের অনীহার কারণে চার হাজার মানুষ ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে প্রাণ হারায়।

কিন্তু এই স্বয়ংক্রিয় চালকবিহীন যানের প্রযুক্তি যে সবার জন্য সুখকর হবে না, তা নির্দ্বিধায় বলা যায়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন চালক এবং এদের সাথে প্রায় ৫.২ মিলিয়ন মানুষ রয়েছেন যারা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভাবে পরিবহন খাতের সাথে জড়িত। স্বয়ংক্রিয় চালকবিহীন যানের আবির্ভাব হলে এদের প্রায় সবাই একই সাথে বেকার হয়ে হয়ে পড়বেন এবং স্বাভাবিক ভাবেই সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর একটি নিদারুন প্রভাব পড়বে, জীবন যাত্রায় নেমে আসবে চরম দুর্গতি।

এটি শুধু পরিবহন ক্ষেত্রের জন্যই প্রযোজ্য না, বরং সকল পেশাজীবী মানুষদের কাছেই এক চরম আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। মেশিন, সফটওয়্যার কিংবা রোবট এর মতন অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলো এতটাই সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম এবং নির্ভুল যে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ আজকে বেকার হয়ে যাবার প্রতীক্ষায় দিন গুনছেন। অপ্রকাশিত এক হিসাব মতে প্রযুক্তির এই আগ্রাসনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪৭% পেশা বিলীনের সম্মুখীন হয়ে শুধুমাত্র বই এর পাতায় ঠাই নিতে চলেছে।

কিন্তু আসলেই কি কখনও এমনটি ঘটবে? যদি ঘটেই থাকে তাহলেই বা আমাদের কি করার আছে? যন্ত্রই কি সত্যি একদিন মানুষ হয়ে উঠবে? সায়েন্স ফিকশন চরিত্র WALL E ‘র মতন আমরা রোবটের হাতে বানানো পারফেক্ট রান্না খাব? নাকি প্রযুক্তির এই উন্নতি আমাদের আরও স্বাধীনতা, আরও অনুপ্রেরণা দিবে আমাদের সাফল্যের অসীমতার সীমায় পৌঁছানোর?

এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া হয়ত এতটা সহজে পাওয়া যাবে না। আমরা যদি শুরু থেকে শুরু করি, তাহলে দেখতে পাব প্রযুক্তি, আবিস্কার কিংবা আমাদের সাংস্কৃতিক চরিত্রগুলো আমাদের সভ্যতার সাথে তাল মিলিয়ে যুগে যুগে পরিবর্তিত হয়েছে, সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে আমাদের কাজের ক্ষেত্র, ধরন এবং বৈশিষ্ট্য। বছরের পর বছর ধরে যন্ত্র আমাদের কাজগুলো নিয়ে আমাদেরই জীবন যাত্রাকে সহজ করে দিচ্ছে। MIT এর অর্থনীতির প্রফেসর DAVID AUTOR বলছেন -“মুক্ত বানিজ্যের অর্থনীতি কখনই একই রকম থাকে না। ইন্ডাস্ট্রির একসময় ভাল সময় আসবে, একবার সময় আসবে খারাপ! এবং এটি প্রতিনিয়ত চক্রাকারে চলতে থাকবে”।

চলবে –

Tech Ninja – Techmorich