দেশসেরা ৫টি স্টার্টআপ

February 12, 2016

প্রযুক্তি বিশ্বে স্টার্টআপ নিয়ে অনেক তোলপাড় হচ্ছে। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। সেরা সব স্টার্ট আপগুলোকে কাজ করার ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আসছে। গত বছরের অক্টোবরে এমনই একটি উদ্যোগ হাতে নেয় গ্রামীণফোন। প্রযুক্তিভিত্তিক সেরা পাঁচটি স্টার্টআপ বাছাই করে নেওয়াই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। ‘জিপি অ্যাকসেলারেটর’ নামের এই প্ল্যাটফর্মে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল এসডি এশিয়া। স্টার্টআপ নিয়ে বেশ আগে থেকেই কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

জিপি অ্যাকসেলারেটরের প্রথম ব্যাচে সেরা পাঁচে জায়গা করে নিতে আবেদন করেছিল শত শত স্টার্টআপ। আবেদন পর্ব শেষে শুরু হয় সেরা স্টার্টআপ বাছাই করে নেওয়ার কঠিন কাজটি। এ জন্য স্টার্টআপগুলোর প্রাথমিক বাছাই শেষে শুরু হয় তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া। এ জন্য নতুন উদ্যোক্তাদের ডেমো প্রেজেন্টেশন, ইন্টারভিউ প্রভৃতি পর্ব শেষে বেছে নেওয়া হয় সেরা পাঁচটি উদ্যোগকে। সেরা পাঁচে জায়গা করে নেওয়া স্টার্টআপগুলো হলো— এনোভেশন, ক্যান্ডি, শেয়ার ইনকর্পোরেশন, সেবা ও রেপটো। এর মধ্যে প্রতিটি স্টার্টআপই কাজ করছে ব্যতিক্রমী সব ভাবনা নিয়ে। তবে ভাবনা যতোই আলাদা হোক না কেন, সবারই মিল একটি জায়গায়, প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করে তোলা। ইতোমধ্যেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে।
চলুন স্টার্টআপগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক –

সেবা

সেবা একটি সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম। ধরুন আপনার বাসার কোনো কোনো ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে হয়তো আপনি কোনো সার্ভিস সেন্টারে পণ্যটি নিয়ে যাবেন মেরামত করার জন্য। তবে এখানে কয়েকটি সমস্যার মধ্যে আপনাকে পড়তে হতে পারে। যেমন—পণ্যটি নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনার মূল্যবান সময় অপচয় করতে হবে। যানজটে পড়ে কাটিয়ে দেওয়া লাগতে পারে বড় একটি সময়। এর পাশাপাশি সার্ভিস সেন্টারে দিয়ে এলে সেটি ঠিকঠাক করার পর ফেরত পেতেও অনেক ক্ষেত্রে বেশ কয়েকদিন চলে যায়। কিন্তু এই সেবাটি যদি ঘরে বসেই পাওয়া যায়, তাহলে এই সবগুলো ব্যাপারেই আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন। এই কাজটিই করে থাকে সেবা। কোনো ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য কিংবা নিরাপত্তা পণ্য থেকে শুরু করে ওয়াইফাই বা ইন্টারনেট সংক্রান্ত সমস্যা কিংবা ক্লিনিং সার্ভিস, এ সবই পাওয়া যাবে সেবা থেকে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট কিংবা কল সেন্টারে কল করে সমস্যার কথা জানালেই দক্ষ টেকনিশিয়ান হাজির হয়ে যাবে দোরগোঁড়ায়। আর সেবা পাওয়ার পর বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের মূল্য পরিশোধ করা যাবে। দক্ষ ব্যক্তিদের কাজের সুযোগও দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। সেবা সম্পর্কে আরও জানা যাবে sheba.xyz থেকে।

শেয়ার ইনকর্পোরেশন

কারপুলিং সেবা সারা বিশ্বেই জনপ্রিয় একটি ধারণা। এর মাধ্যমে একটি গাড়ি একাধিকজন ব্যবহার করতে পারে। এর ফলে যাতায়াত ব্যবস্থা যেমন সহজ হয়, তেমনি যাতায়াত খরচ কমে এবং এর পাশাপাশি গাড়ির জ্বালানী খরচও কমে। তবে এর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কারপুলিংয়ের মাধ্যমে গন্তব্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে সময় সাশ্রয় করা সম্ভব। এ বিষয়টি নিয়েই কাজ করছে শেয়ার ইনকর্পোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির অ্যাপ ব্যবহার করে যে কেউ তাদের গাড়ি বন্ধু কিংবা কাছের মানুষদের সাথে শেয়ার করতে পারবে। এতে করে তাদের অর্থও সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী। তিনি আরও জানান, কারপুলিংয়ের মাধ্যমে যানজটও কমিয়ে আনা সম্ভব। শেয়ার ইনকর্পোরেশনের সেবা ব্যবহার করতে চাইলে ঢুঁ মারতে পারেন তাদের ওয়েবসাইটে। – sharedhaka.com

রেপটো

ই-লার্নিং বর্তমানে খুবই জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। মূলত চিরাচরিত পাঠ পদ্ধতির বাইরে অনলাইনে শিক্ষা ব্যবস্থাই ই-লার্নিং। ই-লার্নিং নিয়েই কাজ করছে রেপটো। রেপ্টোর ওয়েবসাইটে রয়েছে বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্মিত ভিডিও কোর্স। এখানে আছে প্রোগ্রামিং, ফটোগ্রাফি, ফিল্ম মেকিং, বিজনেস, বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ের উপর ভিডিও টিউটরিয়াল। অধ্যায়ভিত্তিক এই টিউটোরিয়াল থেকে এসব বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি। অভিজ্ঞরা চাইলে নিজেদের তৈরি টিউটোরিয়াল এখানে সবার জন্য প্রকাশ করে আয় করতে পারবেন। রেপটো থেকে শিখতে চাইলে বা শেখাতে চাইলে ভিজিট করতে হবে repto-edu.com ওয়েবসাইটটি।

ক্যান্ডি

বিভিন্ন ডিল থেকে আয় করার জন্য একটি স্মার্টফোন অ্যাপ হলো ক্যান্ডি। অ্যাপটি স্মার্টফোনের ইনস্টল করে নিয়ে কাছাকাছি থাকা বিভিন্ন সেবা কেন্দ্রে ছাড় পাওয়া সম্ভব।

এনোভেশন

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েবসাইট খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। একটি ওয়েবসাইট সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। ওয়েবসাইটটি যেন একজন ব্যবহারকারীর জন্য ইউজার ফ্রেন্ডলি হয়, সে জন্য ইউজার এক্সপেরিয়েন্স বা ইউএক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। মূলত এই ইউএক্স তৈরির কাজটিই করে থাকে এনোভেশন। একটি ওয়েবসাইটকে কতটা আকর্ষণীয় এবং কার্যকরভাবে গ্রাহকের কাছে তুলে ধরা যায়, সেটিই এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর ইতোমধ্যেই দেশের বেশ কিছু নামকরা প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করার সুযোগ হয়েছে এনোভেশনের। নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে এনোভেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল আহমেদ জানান, বর্তমানে দেশের বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মাঝারি ও ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজেদের ওয়েবসাইট তৈরি করছে। একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই অনেকে মূল সেবা দিয়ে থাকে। ফলে ওয়েবসাইটটি যেন গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করতে পারে, সে ব্যাপারটির জন্য ইউএক্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও জানান, একটি ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা বিক্রির মাধ্যমে গ্রাহক বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ বিষয়টিকে মাথায় রেখেই ইউএক্স নিয়ে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।