গেইম বা অ্যাপ্লিকেশনে “ইউজার এক্সপেরিয়েন্স” এর গুরুত্ব

02/03/2017

২০০৯ থেকে ২০১৬ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত গুগোল প্লে স্টোরে ২.৬ মিলিয়ন এর ও বেশী এপ আছে । ২০১৪ এর ফেব্রুয়ারি হতে গুগোল প্লে অ্যাপ এর মধ্যে ৪১.২ পারসেন্ট  হচ্ছে গেইম।।  ২০১৬ সালে গুগোল প্লে স্টোরে মোবাইল গেইম এর রেকর্ডেড নেট রেভিনিউ ছিল ৩.১ বিলিয়ন ইউএস ডলার। তার মানে বোঝাই যাচ্ছে গেইমের অপার সম্ভাবনাময় একটা মার্কেট আছে যেখানে আমাদেরও অংশগ্রহণের প্রচুর সুযোগ রয়েছে।

ইউজার কোন প্রোডাক্ট ব্যাবহার করার সময় যে এক্সপেরিএন্সগুলো উপলব্ধ করে তাই হচ্ছে “ইউজার এক্সপেরিয়েন্স“। এটা হতে পারে কোন ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাক্ট, কোন সফটওয়্যার বা অ্যাপ অথবা কোন গেইম। সুতরাং কোন প্রোডাক্ট তৈরির সময় ইউজার এর অভিজ্ঞতার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আমরা যখন কিছু ডিজাইন করি সেটা হচ্ছে ইউজার বা হিউম্যান সেন্টার্ড ডিজাইন

এখনো অনেকের মাঝে ইউএক্স সম্পর্কে কিছু ভুল ধারনা রয়েছে। যেমনঃ ইউএক্স বলতে ইন্টারফেস ডিজাইন কে বার বার মেনশন করে। একটি এপ কত সুন্দর হয়েছে সেটুকুতেই শুধু ঘুরপাক খেতে থাকে।ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইন হচ্ছে ইউএক্সের এন্ড পার্ট। একটি প্রডাক্ট বানানো শেষে ইউজারের কাছে ভিজুয়ালি উপস্থাপন করা হয় “ইউজার ইন্টারফেসের মাধ্যমে”। ইউএক্স একটি এপ বা সফটওয়্যার প্ল্যানিং করা থেকে শুরু করে ইউজার এর কাছে পৌঁছে দেয়া পর্যন্ত প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্টের পুরো লাইফ সাইকেল জুড়েই  গুরুত্ব বহন করে।

মোবাইল এপ হচ্ছে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং একটা বিষয়।আদর করে ইন্সটল করার পর ইউজার ফ্রেন্ডলি এবং ইউজেবল না হলে ঘাড় ধরে আনইন্সটল করতে এক সেকেন্ড ও লাগে না। সুতরাং, কোন এপ বানানোর সময় অবশ্যই এর কোয়ালিটি এবং স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে একদমই আপোষ করা যাবে না। তাড়াহুড়ো করে শুধু প্লেস্টোরে হাজার হাজার এপ এর পোর্টফলিও তৈরি করা হলো কিন্তু দিন শেষে ইন্সটল আনইন্সটলের রেশিও সমান তাহলে তো বিষয়টি দুঃখজনক। প্ল্যানিং টাই এমন ভাবে করতে হবে যে, আমার এপটি মানুষের যেন কাজে আসে। যদি গেইম বানাই সেক্ষেত্রেও সেটা অবশ্যই যেন এক্সাটিং এবং আনন্দদায়ক হয়।

একটি গেইম বা এপ ডেভেলপ করার সময় সবার আগে কিছু বেসিক রিসার্চ করে নিতে হবে। কিছু WH Questions তৈরি করে যেমন, গেইমটি কার জন্য বানাচ্ছি, কি বানাচ্ছি, কিভাবে বানাচ্ছি এবং কেন বানাচ্ছি এই বিষয়গুলো গেইমটির ইউএক্স ডিজাইন করার সময় সবার আগে আলোকজেমন,করে নিতে হবে।

একটি গেইমে কি কি থাকে? একটি চমৎকার ইন্টারফেস, অডিও ভিজুয়াল ইফেক্টস, লজিক, ম্যাথম্যাটিক্স, সাইকোলজি এবং বেশ কিছু ইমোশন্স। একজন ইউজার বা প্লেয়ার যখন একটি গেইম খেলে তখন তার মধ্যে কিছু ইমোশন লক্ষ্য করা যায়। কখনো সে এক্সিটেড হচ্ছে, কখনো হ্যাপি হচ্ছে, কখনো  ভয় পাচ্ছে, কখনো দুখী হচ্ছে আবার কখনো রাগ হচ্ছে। সুতরাং একটি গেইম ডেভেলপ এবং ডিজাইনের সময় ডিজাইনারকে পুরো গেইমের সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে শুরু করে, ইন্টারফেইস ডিজাইন এমনকি ইউজার বা প্লেয়ারের এই ইমোশনগুলোকেও ডিজাইন করার জন্য ইউএক্স নিয়ে কাজ করতে হয়।  এই কাজটি করা হয় ইউজ্যাবিলিটি টেস্টিং এর সময়।

স্ট্যাটিক্স এ দেখা গেছে ডিসেম্বরে  ২০১৬ থেকে ১০ মিলিয়নের ও বেশী যে গেইম গুলো আইওএসে ডাউনলোড হয়েছে  তার মধ্যে অন্যতম ছিল  “Super Mario Run” । মাত্র একদিনেই ১০ মিলিয়ন  ডাউনলোড ! ২০১৬ এর ১৭ ডিসেম্বর “Apple App Store” এ “Super Mario Run” রিলিজের মাত্র ৩ দিনের মাথায় সারা বিশ্বে “Super Mario Run” ৩৭ মিলিয়নেরও বেশী বার ডাউনলোড  হয়েছে। এরপর আছে পকিমন গো, ক্লাশ রয়েল, ক্যান্ডি ক্রাশ জ্যালি সাগা, এংগ্রি বার্ডস, ফারম হিরোস সুপার সাগা, শ্লিথার ইত্যাদি।

আমদেরও এমন গেইম বা এপ ডেভেলপ করতে হবে যেন পুরো বিশ্বকে নাড়া দেয়। শুধু প্রতিযোগিতার খাতিরে বা হুটহাট করে একটা এপ বানিয়ে  প্লেস্টোরে ছেড়ে দিয়ে নিজেরা আত্মতৃপ্তিতে ঢেকুর তুলে কোন লাভ নেই। এমন কিছু বানাতে হবে যা কিনা মানুষের সত্যিকারের উপকারে আসে অথবা আনন্দদায়ক হয়!